সাময়িক প্রসঙ্গ
মাহে রামাযানের গুরুত্ব ও তাৎপর্য
অধ্যাপক ডক্টর মুহাম্মাদ রঈসুদ্দীন
মাহে রামাযান যেমন মহান আল্লাহর রহমত, মাগফিরাত ও অনুগ্রহ লাভের মাস, তেমন মানুষের প্রতি মানুষের দয়া ও ক্ষমা প্রদর্শন এবং প্রেম-প্রীতি ও সহানুভূতি প্রকাশের মাস। মহানাবী (সাল্লাল্লা-হু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রামাযান মাসে যেমন অত্যধিক ‘ইবাদত বন্দেগীতে মগ্ন থাকতেন, তেমনি দান-খায়রাতেও ছিলেন উদারহস্ত। আমাদের মধ্যে এমন অনেক সৌভাগ্যবান ব্যক্তি রয়েছেন যারা রামাযানের নি‘য়ামত লাভের এ মহা সুযোগের সদ্ব্যবহার করছেন। অপর দিকে আমাদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক এমন লোক ও রয়েছেন, যারা রামাযানের রহমত, বরকত এবং মাগফিরাতসহ অন্যান্য কল্যাণ ও সুযোগ সম্পর্কে সম্পূর্ণ উদাসীন। এটা খুবই বেদনাদায়ক। কারণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লা-হু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন : “সুস্থ সবল শরীর নিয়ে এ পবিত্র মাহে রামাযানকে পেয়েও যে ব্যক্তি পাপ মুক্ত হতে পারলো না, তার মত দুর্ভাগা আর কেউ নেই।”
আবূ উমামাহ (রাযিয়াল্লা-হু ‘আন্ হু) থেকে বর্ণিত, রাসূলে কারীম (সাল্লাল্লা-হু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন : একবার আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, একটি সম্প্রদায় উল্টোভাবে ঝুলছে। তাদের গালটি ফাড়া। গাল থেকে রক্ত ঝরছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এরা কারা? বলা হল- এরা তারা, যারা রামাযান মাসে বিনা ওযরে সিয়াম রাখে না।[১]
রাসূলে কারীম (সাল্লাল্লা-হু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদেরকে এই মহান মাসের রাতে মহান আল্লাহর ‘ইবাদত, পবিত্র কুর’আন তিলাওয়াত আর জাগ্রত থাকার জন্য বারংবার তাকীদ করেছেন। তিনি নিজে এ মাসে অধিক মাত্রায় দান-খায়রাত করতেন এবং লোকদেরকে দান-খয়রাত করতে বলতেন।
ইবনু ‘আব্বাস (রাযিয়াল্লা-হু ‘আন্ হু) থেকে আরও বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন :
كَانَ النَّبِىُّ ﷺ أَجْوَدَ النَّاسِ بِالْخَيْرِ وَكَانَ أَجْوَدُ مَا يَكُوْنُ فِىْ رَمَضَانَ حِيْنَ يَلْقَاهُ جِبْرِيْلُ وَكَانَ جِبْرِيْلُ ؑ يَلْقَاهُ كُلَّ لَيْلَةٍ فِىْ رَمَضَانَ حَتّٰى يَنْسَلِخَ يَعْرِضُ عَلَيْهِ النَّبِىُّ ﷺ الْقُرْآنَ فَإِذَا لَقِيَهُ جِبْرِيْلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ كَانَ أَجْوَدَ بِالْخَيْرِ مِنَ الرِّيْحِ الْمُرْسَلَةِ.
রাসূলে কারীম (সাল্লাল্লা-হু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সকল মানুষ অপেক্ষা অধিকতর দানশীল ছিলেন। রামাযানে যখন জিব্রীল (‘আলায়হিস্ সালাম) তাঁর সাথে সাক্ষাত করতে আসতেন, তখন রাসূলে কারীম (সাল্লাল্লা-হু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দানশীলতা অত্যধিক বেড়ে যেত। জিব্রীল (‘আলায়হিস্ সালাম) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লা-হু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে রামাযান মাসের শেষ তারিখ পর্যন্ত প্রত্যেক রাতেই মিলিত হতেন এবং রাসূলে কারীম (সাল্লাল্লা-হু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে কুর’আন শুনাতেন। তাঁর সাথে যখন জিব্রীল (‘আলায়হিস্ সালাম)-এর সাক্ষাৎকার ঘটত, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লা-হু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দানশীলতার অবস্থা দ্রুত বেগে প্রবাহিত বায়ুর চেয়েও বেশী প্রবল আকার ধারণ করত।[২]
এবার রামাযানের গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য সম্পর্কে বিশেষ নয়টি হাদীস পেশ করছি।
১. عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ ঃ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ اِذَا دَخَلَ رَمَضَانُ فُتِحَتْ أَبْوَابُ السَّمَاءِ وَفِىْ رِوَايَةٍ فُتِحَتْ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ جَهَنَّمَ وَسُلْسِلَتِ الشَّيَاطِيْنُ وَفِىْ رِوَايَةٍ فُتِحَتْ أَبْوَابُ الرَّحْمَةِ.
১. আবূ হুরায়রাহ্ (রাযিয়াল্লা-হু ‘আন্ হু) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলে কারীম (সাল্লাল্লা-হু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন : যখন রামাযান মাস আসে, তখন আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করা হয়। আর শায়তানকে শিকলাবদ্ধ করা হয়। অপর বর্ণনায় আছে, রহমতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়।[৩]
২. عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ ঃ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِذَا كَانَ أَوَّلُ لَيْلَةٍ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ صُفِّدَتِ الشَّيَاطِيْنُ وَمَرَدَةُ الْجِنِّ وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ النَّارِ فَلَمْ يُفْتَحْ مِنْهَا بَابٌ وَفُتِحَتْ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ فَلَمْ يُغْلَقْ مِنْهَا بَابٌ وَيُنَادِىْ مُنَادٍ يَا بَاغِىَ الْخَيْرِ أَقْبِلْ وَيَا بَاغِىَ الشَّرِّ أَقْصِرْ وَلِلّٰهِ عُتَقَاءُ مِنْ النَّارِ وَذٰلِكَ كُلَّ لَيْلَةٍ.
২. আবূ হুরায়রাহ্ (রাযিয়াল্লা-হু ‘আন্ হু) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লা-হু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন : রামাযানের প্রথম রাত যখন আসে, তখন শায়তানদের এবং জিনের উদ্ধতদের কয়েদে আবদ্ধ করা হয়। আর জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। তারপর তার মধ্যে কোন দরজাই খোলা হয় না। আর জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়। তারপর তার মধ্যে কোন দরজাই বন্ধ করা হয় না। আর একজন আহ্বানকারী আহ্বান করতে থাকে। হে কল্যাণের প্রত্যাশী অগ্রসর হও। হে মন্দের অন্বেষণকারী থাম। মহান আল্লাহ এ মাসে বহু ব্যক্তিকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন। আর এটা প্রতি রাতেই হয়ে থাকে।[৪]
৩. আনাস ইবনু মালিক (রাযিয়াল্লা-হু ‘আন্ হু) বলেন :
৩. دَخَلَ رَمَضَانُ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِنَّ هٰذَا الشَّهْرَ قَدْ حَضَرَكُمْ وَفِيْهِ لَيْلَةٌ خَيْرٌ مِّنْ اَلْفِ شَهْرٍ مَّنْ حَرُمَهَا فَقَدْ حَرُمَ الْخَيْرَ كُلَّهُ وَلَا يَحْرُمُ خَيْرَهَا اِلَّا كُلُّ مَحْرُوْمٍ.
রামাযান মাস আসলে রাসূলে কারীম (সাল্লাল্লা-হু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদেরকে বললেন, এ মাস তোমাদের নিকট উপস্থিত হয়েছে, এতে এমন একটি রাত রয়েছে যা হাজার মাস অপেক্ষাও উত্তম। যে তার কল্যাণ হতে বঞ্চিত, সে সর্বপ্রকার কল্যাণ হতে বঞ্চিত। আর তা থেকে কেউ বঞ্চিত হয় না, চিরবঞ্চিত ব্যক্তি ব্যতীত।[৫]
৪. আবূ হুরায়রাহ্ (রাযিয়াল্লা-হু ‘আন্ হু) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলে কারীম (সাল্লাল্লা-হু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন :
৪. مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيْمَانًا وَاِحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ ـ وَمَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيْمَانًا وَاِحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ ـ وَمَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيْمَانًا وَاِحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ.
যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সাওয়াবের নিয়তে রামাযান মাসে সাওম রাখবে, তাঁর পূর্বের গুনাহসমূহ মা‘ফ করে দেয়া হবে এবং যে ঈমানের সাথে সাওয়াবের নিয়তে রামাযান মাসের রাত ‘ইবাদতে কাটাবে, তার পূর্বের গুনাহসমূহ মা‘ফ করে দেয়া হবে। আর যে ঈমানের সাথে ও সাওয়াবের নিয়তে কাদরের রাত ‘ইবাদতে কাটাবে, তার পূর্বের গুনাহসমূহ মা‘ফ করে দেয়া হবে।[৬]
৫. আবূ হুরায়রাহ্ (রাযিয়াল্লা-হু ‘আন্ হু) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলে কারীম (সাল্লাল্লা-হু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন :
৫. اَلصَّلَوَاتُ الْخَمْسُ وَالْجُمُعَةُ إِلَى الْجُمُعَةِ وَرَمَضَانُ إِلٰى رَمَضَانَ مُكَفِّرَاتٌ لِّمَا بَيْنَهُنَّ إِذَا اجْتُنِبَتِ الْكَبَائِرُ.
কাবীরাহ গুনাহ থেকে দূরে অবস্থান করলে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, এক জুমু‘আ থেকে অন্য জুমু‘আ, এক রামাযান থেকে অন্য রামাযান পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ের সমস্ত সগীরাহ গুনাহ মা‘ফ করে দেয়া হয়।[৭]
৬. মহানাবী (সাল্লাল্লা-হু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন :
৬. صُمْ شَهْرَ الصَّبْرِ وَثَلَاثَةَ أَيَّامٍ فِىْ كُلِّ شَهْرٍ.
তুমি সবরের মাস অর্থাৎ- মাহে রামাযানে এবং প্রতি চান্দ্রমাসে তিন দিবসে সাওম রাখ।[৮]
৭. রাসূলে কারীম (সাল্লাল্লা-হু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন :
৭. عُمْرَةٌ فِىْ رَمَضَانَ تَعْدِلُ حَجَّةً.
রামাযান মাসে ‘উমরাহ্ পালন করা হাজ্জের সমতুল্য।[৯]
৮. ‘আয়িশাহ্ (রাযিয়াল্লা-হু ‘আন্ হা) বলেন :
৮. كَانَ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا دَخَلَ الْعَشْرُ شَدَّ مِئْزَرَهُ وَأَحْيَا لَيْلَهُ وَأَيْقَظَ أَهْلَهُ.
যখন রামাযানের শেষ দশকের আগমন ঘটত, তখন রাসূলে কারীম (সাল্লাল্লা-হু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ‘ইবাদতের জন্য তাঁর কোমর কষে বেঁধে ফেলতেন। অর্থাৎ- ‘ইবাদতের জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করতেন। তিনি সারা রাত জাগতেন এবং আপন পরিবার-পরিজনকেও জাগিয়ে দিতেন।[১০]
৯. ‘আমর ইবনু মুররাহ্ আল জুহানী (রাযিয়াল্লা-হু ‘আন্ হু) বলেন :
৯. جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِىِّ ﷺ فَقَالَ : يَا رَسُوْلَ اللهِ أَرَأَيْتَ إِنْ شَهِدْتُّ أَنْ لَّا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَأَنَّكَ رَسُوْلُ اللهِ وَصَلَّيْتُ الصَّلَوَاتِ الْخَمْسَ وَأَدَّيْتُ الزَّكَاةَ وَصُمْتُ رَمَضَانَ وَقُمْتُهُ فَمِمَّنْ أَنَا؟ قَالَ مِنَ الصِّدِّيْقِيْنَ وَالشَّهَدَاءِ.
একজন লোক নাবী কারীম (সাল্লাল্লা-হু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এসে বলল, হে মহান আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লা-হু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আপনার রায় কি? আমি যদি এ সাক্ষ্য দেই যে, মহান আল্লাহ ছাড়া ‘ইবাদতের যোগ্য কেউ নেই এবং আপনি মহান আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লা-হু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। আর আমি পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করি ও যাকাত প্রদান করি এবং রামাযানের সিয়াম রাখি ও শেষ রাতে সালাতে দাঁড়াই, তাহলে আমি কাদের মধ্যে গণ্য হতে পারি? মহানাবী (সাল্লাল্লা-হু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জবাবে বললেন, তুমি সিদ্দীক ও শহীদদের মধ্যে গণ্য হতে পারবে।[১১]
সাওমের গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য : সাওমের গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য অপরিসীম। নিম্নে এ সংক্রান্ত বারটি হাদীস উপস্থাপন করছি।
১. সাহ্ল ইবনু সা‘দ (রাযিয়াল্লা-হু ‘আন্ হু) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলে কারীম (সাল্লাল্লা-হু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ‘ইরশাদ করেছেন :
১. فِى الْجَنَّةِ ثَمَانِيَةُ أَبْوَابٍ مِنْهَا بَابٌ يُسَمَّى الرَّيَّانَ لَا يَدْخُلُهُ اِلَّا الصَّائِمُوْنَ.
জান্নাতে আটটি দরজা রয়েছে। তার মধ্যে একটি দরজার নাম “রাইয়্যান”। সাওম পালনকারী ব্যতীত ঐ দরজা দিয়ে আর কোন ব্যক্তি প্রবেশ করতে পারবে না।[১২]
২. আবূ হুরায়রাহ্ (রাযিয়াল্লা-হু ‘আন্ হু) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলে কারীম (সাল্লাল্লা-হু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘোষণা করেছেন :
২. كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ يُضَاعَفُ الْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا إِلٰى سَبْعِ مِائَةِ ضِعْفٍ قَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ : إِلَّا الصَّوْمَ فَإِنَّهُ لِىْ وَأَنَا أَجْزِيْ بِهِ يَدَعُ طَعَامَهُ وَشَهْوَتَهُ مِنْ أَجْلِىْ لِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ : فَرْحَةٌ عِنْدَ فِطْرِهِ وَفَرْحَةٌ عِنْدَ لِقَاءِ رَبِّهِ وَلَخُلُوْفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ اَلصَّوْمُ جُنَّةٌ وَإِذَا كَانَ يَوْمُ صَوْمِ أَحَدِكُمْ فَلَا يَرْفُثْ وَلَا يَصْخَبْ فَإِنْ سَابَّهُ أَحَدٌ أَوْ قَاتَلَهُ فَلْيَقُلْ : إِنِّى امْرُؤٌ صَائِمٌ.
মানব সন্তানের নেক ‘আমল বাড়ানো হয়ে থাকে- প্রত্যেক নেক ‘আমল দশ গুণ থেকে সাতশত গুণ পর্যন্ত। মহান আল্লাহ বলেন, কিন্তু সাওম ব্যতীত। কেননা সাওম আমারই জন্য এবং আমিই তার প্রতিফল দান করব। সে আমরই জন্য আপন প্রবৃত্তি ও পানাহার ত্যাগ করে থাকে। সাওম পালনকারীর জন্য দু’টি আনন্দ রয়েছে, একটি তাঁর ইফতারের সময় অপরটি জান্নাতে আপন পরওয়ারদিগারের সাথে সাক্ষাত লাভের সময়। নিশ্চয় সাওম পালনকারীর মুখের গন্ধ মহান আল্লাহর নিকট মিশকের খোশবু অপেক্ষাও অধিক সুগন্ধ। সাওম হচ্ছে মানুষের জন্য ঢালস্বরূপ। সুতরাং যখন তোমাদের মধ্যে কারও নিকট সাওমের দিন আসে, তখন সে যেন অশ্লীল কথা না বলে এবং অনর্থক শোরগোল না করে। যদি কেউ তাকে গালি দেয় অথবা তার সাথে ঝগড়া করতে চায়- সে যেন বলে, আমি সাওম পালনকারী।[১৩]
৩. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাযিয়াল্লা-হু ‘আন্ হু) থেকে বর্ণিত আছে, রাসূলে কারীম (সাল্লাল্লা-হু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ‘ইরশাদ করেছেন :
৩. اَلصِّيَامُ وَالْقُرْآنُ يَشْفَعَانِ لِلْعَبْدِ يَقُوْلُ الصِّيَامُ أَىْ رَبِّ إِنِّىْ مَنَعْتُهُ الطَّعَامَ وَالشَّهَوَاتِ بِالنَّهَارِ فَشَفِّعْنِىْ فِيْهِ وَيَقُوْلُ الْقُرْآنُ مَنَعْتُهُ النَّوْمَ بِاللَّيْلِ فَشَفِّعْنِىْ فِيْهِ قَالَ فَيُشَفَّعَانِ.
সাওম এবং কুর’আন মহান আল্লাহর নিকট বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। সাওম বলবে হে পরওয়ারদিগার! আমি তাকে দিনের বেলায় তার পানাহার ও প্রবৃত্তি থেকে বিরত রেখেছি, সুতরাং তাঁর ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবূল করুন। আর কুর’আন বলবে, আমি তাকে রাতে নিদ্রা থেকে বিরত রেখেছি। সুতরাং তাঁর ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। মহানাবী (সাল্লাল্লা-হু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, তারপর তাদের সুপারিশ গ্রহণ করা হবে।[১৪]
৪. যায়দ ইবনু খালিদ (রাযিয়াল্লা-হু ‘আন্ হু) বলেন, রাসূলে কারীম (সাল্লাল্লা-হু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘোষণা করেছেন :
৪. مَنْ فَطَّرَ صَائِمًا أَوْ جَهَّزَ غَازِيًا فَلَهُ مِثْلُ أَجْرِهِ.
যে ব্যক্তি কোন সাওম পালনকারীকে ইফতার করায় অথবা কোন গাযীকে জিহাদের অস্ত্র দ্বারা সজ্জিত করে, তাঁর জন্যও সাওম পালনকারী বা গাযীর অনুরূপ সাওয়াব রয়েছে।[১৫]
৫. যায়দ ইবনু খালিদ (রাযিয়াল্লা-হু ‘আন্ হু) অপর একটি বর্ণনায় বলেন, রাসূলে কারীম (সাল্লাল্লা-হু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন :
৫. مَنْ جَهَّزَ غَازِيًا أَوْ جَهَّزَ حَاجًّا أَوْ خَلَفَهُ فِىْ أَهْلِهِ أَوفَطَّرَ صَائِمًا كَانَ لَهُ مِثْلُ أُجُوْرِهِمْ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَّنْقُصَ مِنْ أُجُوْرِهِمْ شَيْئٌ.
যে ব্যক্তি জিহাদকারীর সামান যুগিয়ে দেন, অথবা হাজ্জযাত্রীর সামগ্রী তৈরী করে দেন, কিংবা তাঁর পরিবারের দেখা শোনাকারী হন, নতুবা কোন সাওম পালনকারীকে ইফতার করান, তিনিও ওদের মতই পুরস্কার পাবেন, অথচ ওদের পুরস্কার থেকে কোন জিনিসই কম করা হবে না।[১৬]
৬. রাসূলে কারীম (সাল্লাল্লা-হু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ‘ইরশাদ করেছেন :
৬. ثَلَاثُ دَعْوَاتٍ لَّا تُرَدُّ : دَعْوَةُ الْوَالِدِ لِوَلَدِهِ وَدَعْوَةُ الصَّائِمِ ـ وَدَعْوَةُ الْمُسَافِرِ.
তিন রকম দু‘আ প্রত্যাখাত হয় না ১. পিতা-মাতার দু‘আ সন্তানের জন্য ২. সাওম পালনকারীর দু‘আ এবং ৩. মুসাফিরের দু‘আ।[১৭]
৭. আবূ উমামাহ্ (রাযিয়াল্লা-হু ‘আন্ হু) বলেন, আমি মহানাবী (সাল্লাল্লা-হু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে বললাম, হে মহান আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লা-হু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! আমাকে এমন কাজের কথা বলে দিন যার দ্বারা আমি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারি। এর জবাবে মহানাবী (সাল্লাল্লা-হু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন :
৭. عَلَيْكَ بِالصَّوْمِ فَاِنَّهُ لَا مِثْلَ لَهُ. وَكَانَ أَبُوْ أُمَامَةَ لَا يُرٰى فِىْ بَيْتِهِ الدُّخَانُ نَهَارًا إِلَّا إِذَا نَزَلَ بِهِمْ ضَيْفٌ.
তুমি অবশ্যই সাওম পালন করবে, কেননা সাওমের সমতুল্য আর কিছুই নেই।[১৮] অতঃপর আবূ উমামাহ্ (রাযিয়াল্লা-হু ‘আন্ হু)-এর ঘরে দিনের বেলায় ধোঁয়া দেখা যেত না। কেবল তখন তা দেখা যেত যখন তাঁর বাড়িতে অতিথি আসত।[১৯]
৮. ‘উসমান ইবনু আবিল ‘আস (রাযিয়াল্লা-হু ‘আন্ হু) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লা-হু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন :
৮. اَلصَّوْمُ جُنَّةٌ مِّنَ النَّارِ كَجُنَّةِ أَحَدِكُمْ مِنَ الْقِتَالِ.
সাওম হচ্ছে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার ঢালস্বরূপ। যেমন হত্যা থেকে বাঁচার জন্য তোমাদের কারও ঢাল থাকে।[২০] অপর বর্ণনায় রয়েছে :
৯. صِيَامٌ حَسَنٌ صِيَامُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ مِّنَ الشَّهْرِ.
৯. আর উত্তম সাওম হচ্ছে প্রত্যেক মাসে তিনটি সিয়াম।[২১]
১০. আবূ উমামাহ (রাযিয়াল্লা-হু ‘আন্ হু) বলেন, রাসূলে কারীম (সাল্লাল্লা-হু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন :
১০. مَنْ صَامَ يَوْمًا فِىْ سَبِيْلِ اللهِ جَعَلَ اللهُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ النَّارِ خَنْدَقًا كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ.
যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর পথে একদিন সাওম পালন করে মহান আল্লাহ তার মাঝে এবং জাহান্নামের আগুনের মাঝে একটি গর্ত তৈরী করে দেন, যা আসমান ও জমিনের মাঝের দূরত্বের মত।[২২]
১১. রাসূলে কারীম (সাল্লাল্লা-হু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন :
১১. مَنْ صَامَ يَوْمًا فِىْ سَبِيْلِ اللهِ بَعَّدَ اللهُ وَجْهَهُ مِنْ النَّارِ سَبْعِيْنَ خَرِيْفًا.
যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর রাহে মাত্র একদিন সিয়াম পালন করবে, আল্লাহ তা‘আলা তার চেহারাকে জাহান্নাম থেকে সত্তর বছরের পথ দূরে করে দিবেন।[২৩]
এ হাদীসে সত্তর বছরের পথ অতিক্রম কিসের দ্বারা হবে পায়ে হেঁটে না ঘোড়ায় চড়ে, না অন্য কোন যানে তা বলা হয়নি। সুতরাং এর ভাবার্থ হল শত শত মাইল কিংবা হাজার হাজার অথবা লাখ লাখ মাইল দূরে থাকবে তাদের চেহারা জাহান্নাম থেকে।
প্রিয় পাঠকমণ্ডলী! নফল সিয়ামের সাওয়াব যদি এত হয় তাহলে চিন্তা করুন ফরয সাওমের সাওয়াব কি পরিমাণ হতে পারে? একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীন ভাল জানেন।
১২. রাসূলে কারীম (সাল্লাল্লা-হু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন :
১২. فِتْنَةُ الرَّجُلِ فِىْ أَهْلِهِ وَمَالِهِ وَجَارِهِ تُكَفِّرُهَا الصَّلَاةُ وَالصِّيَامُ وَالصَّدَقَةُ.
কোন লোকের স্ত্রী-পুত্র, ধন-সম্পদ ও প্রতিবেশীর দ্বারা সৃষ্ট গুনাহ, সালাত, সিয়াম ও দান খায়রাত মোচন করে দেয়। অর্থাৎ- কোন ব্যক্তির যদি ছেলে-মেয়ে, ধন-সম্পদ ও প্রতিবেশীর মাধ্যমে কোন পাপ হয়ে যায়। অতঃপর ঐ ব্যক্তি যদি যথারীতি সালাত, সিয়াম ও দান খায়রাত করে, তাহলে তাঁর এ ধরনের ‘ইবাদতের মাধ্যমে পূর্বেকার গুনাহসমূহ মা‘ফ হয়ে যায়।[২৪]
সিয়ামের পার্থিব উপকার : কোন পুরুষ ও নারী যখন যৌবনে পা দেয় তখন দৈহিক কারণে তারা একে অপরকে প্রয়োজন বোধ করে। তখন তাদের এ প্রয়োজন মিটাবার জন্য তাদের মধ্যে বিবাহ বন্ধন তৈরী করতে হয়। কিন্তু যে যুবক পুরুষের যৌবনশক্তি আছে, অথচ একজন নারীকে ভরণপোষণের সামর্থ্য তার নেই, এমতাবস্থায় ঐ যুবকটি কি করবে? সে কী ডুবে ডুবে পানি পান করবে। অর্থাৎ- সে কি ব্যভিচার করে সিফিলিস ও গনোরিয়ার মত মরণরোগে আক্রান্ত হবে? না, সে সাওম পালন করে মাথাকে ঠাণ্ডা করার উপায় খুঁজবে। তার মাথা ঠাণ্ডা করার ঔষধ হচ্ছে সিয়ামব্রত পালন করা। এ সম্পর্কে একটি হাদীস প্রণিধানযোগ্য। ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘উদ থেকে বর্ণিত। রাসূলে কারীম (সাল্লাল্লা-হু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন :
يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ مَنِ اسْتَطَاعَ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ وَمَنْ لَّمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصُّوْمِ فَإِنَّهُ لَهُ وِجَاءٌ.
হে যুবক দল! তোমাদের মধ্যে যে বিয়ে করার সামর্থ্য রাখে, সে যেন বিয়ে করে। কারণ তা চোখটাকে অতি সংযতকারী ও লজ্জাস্থানকে অতি হিফাযতকারী। আর যে ব্যক্তি বিয়ে করার সামর্থ্য রাখে না, তার জন্য সাওম পালন করা অবশ্য কর্তব্য। কারণ সাওম পালন করা তার জন্য ব্যভিচার থেকে বাঁচার ঢালস্বরূপ।[২৫]
উপসংহারে বলা যায় যে, মানব জীবনে মাহে রামাযানের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। এ মাসটি হলো গুনাহ মাফের মাস, রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের মাস এবং মহান আল্লাহর সান্নিধ্য অর্জনের মহা সুযোগের মাস। কাজেই এ সুযোগকে অবহেলা করা যাবে না। সুযোগের সদ্ব্যবহার করে আল্লাহ তা‘আলার নৈকট্য অর্জন করতে হবে এবং গুনাহ থেকে পবিত্র হওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাতে হবে। বেশি বেশি নেকির কাজ করতে হবে এবং মহান আল্লাহর কাছে বেশি বেশি তাওবাহ্ ও ইসতিগফার করতে হবে। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের সহায় হোন -আমীন।

[১]. ইবনু খুযায়মাহ- হা: ১৯৮৬, ইবনু হিব্বান- হা: ৭৪৯১।
[২]. সহীহুল বুখারী- হা: ১৮০৩।
[৩]. সহীহুল বুখারী- হা: ১৮০০ ও সহীহ মুসলিম- হা: ২৫৪৮।
[৪]. তিরমিযী- হা: ৬৮২, ইবনু মাজাহ্- হা: ১৬৪২, আহমাদ।
[৫]. সুনান ইবনু মাজাহ্- হা: ১৬৪৪।
[৬]. সহীহুল বুখারী- হা: ১৯১০ ও সহীহ মুসলিম- হা: ১৮১৭।
[৭]. সহীহ মুসলিম- হা: ৫৭৩।
[৮]. আবূ দাউদ, ইবনু মাজাহ্- হা: ১৭৪১, আলবানী হাদীসটিকে সহীহ আল-জামি‘উস সাগীরে সঙ্কলন করেছেন।
[৯]. সহীহুল বুখারী- হা: ২৮০৯।
[১০]. সহীহুল বুখারী- হা: ১৯২০ ও সহীহ মুসলিম- হা: ২৮৪৪।
[১১]. সহীহ ইবনু হিব্বান- হা: ৩৪৩৮।
[১২]. সহীহুল বুখারী- হা: ৩০৮৪ ও সহীহ মুসলিম- হা: ২৭৬৬।
[১৩]. সহীহুল বুখারী- হা: ১৮০৫ ও সহীহ মুসলিম- হা: ২৭৬২।
[১৪]. বায়হাকী- শু‘আবুল ঈমান, হা: ১৯৯৪।
[১৫]. বায়হাকী- শু‘আবুল ঈমান, হা: ৩৯৫২।
[১৬]. সুনান নাসাঈ- হা: ৩৩৩১, সহীহ ইবনু খুযায়মাহ্- হা: ২০৬৪; ‘আল্লামাহ্ শায়খ মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আল্-আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
[১৭]. জামি‘উস সাগীর- হা: ৫৩৪৩, ‘আল্লামাহ্ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী এ হাদীসকে হাসান বলেছেন।
[১৮]. সহীহ ইবনু হিব্বান- হা: ৩৪২৫, মুসনাদ আহমাদ- হা: ২২১৪০, আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন এবং জামি‘উস সাগীরে সঙ্কলন করেছেন।
[১৯]. সহীহুত তারগীব ওয়াত্ তারহীব- ১ম খ-, পৃ: ৪৮৫।
[২০]. সহীহ ইবনু খুযায়মাহ্- হা: ২১২৫, ৩য় খ-, পৃ: ১৯৩।
[২১]. আল জামি‘উস সাগীর- হা: ৭২৯৭।
[২২]. জামি‘ তিরমিযী- হা: ১৬২৪।
[২৩]. সহীহুল বুখারী- হা: ২৬৮৫ ও সহীহ মুসলিম- হা: ২৭৬৯।
[২৪]. সহীহুল বুখারী- হা: ১৭৯৬ ও সহীহ মুসলিম- হা: ৩৮৬।
[২৫]. সহীহুল বুখারী- হা: ৪৭৭৮ ও সহীহ মুসলিম- হা: ৩৪৬৪।


আপনার মন্তব্য

ঢাকায় সূর্যোদয় : 5:22:21 সূর্যাস্ত : 6:47:59

সাপ্তাহিক আরাফাতকে অনুসরণ করুন

@সাপ্তাহিক আরাফাত