রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর অমীয় বাণী
عَنْأَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ (ﷺ) الدُّنْيَا سِجْنُ الْمُؤْمِنِوَجَنَّةُ الْكَافِرِ.
হাদীসের সরল অনুবাদ
আবূ হুরাইরাহ্ (সা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দুনিয়া মু’মিনের জন্য জেলখানা এবং কাফেরের পক্ষে জান্নাত।’[১]
রাবীর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
নাম ও পরিচিতি : আবূ হুরাইরাহ্ (রা.)’র নামের ব্যাপারে অনেক অভিমত পাওয়া যায়। প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী ইসলাম গ্রহণের পূর্বে তাঁর নাম ছিল ‘আব্দুশ্ শাম্স বা আবদে ‘উমার। ইসলাম গ্রহণের পর তাঁর নাম রাখা হয় ‘আব্দুর রহমান। তিনি দক্ষিণ আরবের আযদ গোত্রের সুলায়মইবনু ফাহাম বংশোদ্ভূত ছিলেন। তাঁর পিতার নাম সাখর এবং মাতার নাম উম্মিয়া বিনতু সফীহ মতান্তরে মায়মুনা।
আবূ হুরাইরাহ্ নামে নামকরণ : একদিন আবূ হুরাইরাহ্ (রা.) জামার আস্তিনের নিচে একটি বিড়াল ছানা নিয়ে রাসূল (সা.)-এর দরবারে উপস্থিত হন। বিড়ালটি হঠাৎ সকলের সামনে বেরিয়ে পড়ল। এ অবস্থা দেখে রাসূল (সা.) তাঁকে রসিকতা করে- ‘হে বিড়ালের পিতা’! বলে সম্বোধন করলেন। এরপর থেকে তিনি আবূ হুরাইরাহ্ নামে খ্যাতি লাভ করেন।
ইসলাম গ্রহণ : তিনি ৬২৯ খ্রিষ্টাব্দ মোতাবেক ৭ম হিজরিতে মুহাররম মাসে খায়বর যুদ্ধের প্রাক্কালে মদীনায় ইসলাম গ্রহণ করেন। তখন তাঁর বয়স হয়েছিল ত্রিশ বছরের মতো।
যুদ্ধে অংশগ্রহণ : ইসলাম গ্রহণের পর হতে তিনি ইসলামের সকল যুদ্ধে রাসূল (সা.)-এর সাথে অংশ গ্রহণ করেন।
হাদীস শাস্ত্রে তাঁর অবদান : সাহাবীদের মাঝে তিনিই সর্বাধিক হাদীস বর্ণনা করেন। তাঁর বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা মোট ৫৩৭৪টি মতান্তরে ৫৩৭৫টি। ইমাম বুখারীর মতে, আট শতাধিক রাবী তাঁর থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি আসহাবে সুফ্ফা-এর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
মৃত্যু : ৫৭ মতান্তরে ৫৮/৫৯ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। তাকে জান্নাতুল বাকীতে দাফন করা হয়।
হাদীসের ব্যাখ্যা আলোচ্য হাদীসের ব্যাখ্যায় ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (র.) বলেন,
فَأَمامَا وعد بِهِ الْمُؤمن بعد الْمَوْت من كَرَامَة الله فَإِنَّهُ تكون الدُّنْيَابِالنِّسْبَةِ إِلَيْهِ سجنا وَمَا للْكَافِرِ بعد الْمَوْت من عَذَاب اللهفَإِنَّهُ تكون الدُّنْيَا جنَّة بِالنِّسْبَةِ إِلَى ذٰلِك.
‘মৃত্যুর পর মু’মিনকে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে যে অফুরন্ত নিয়ামতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে সে তুলনায় দুনিয়া তার কাছে কারাগারের মতো। অন্যদিকে মৃত্যুরপর কাফেরের জন্য মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে যে ‘আযাবের প্রতিশ্রুতি রয়েছে, সে তুলনায় দুনিয়া তার কাছে জান্নাতের মতো। অর্থাৎ- পরকালের অফুরন্ত সুখ বা দুঃখের বিবেচনায় দুনিয়ার জীবন মানুষের জন্য কারাগার বা জান্নাত হবে।’[২]
ইমাম নববী ( ) বলেন,
مَعْنَاهُأَنَّ كُلَّ مُؤْمِنٍ مَسْجُونٌ مَمْنُوْعٌ فِي الدُّنْيَا مِنَ الشَّهَوَاتِالْمُحَرَّمَةِ وَالْمَكْرُوْهَةِ مُكَلَّفٌ بِفِعْلِ الطَّاعَاتِ الشَّاقَّةِفَإِذَا مَاتَ اسْتَرَاحَ مِنْ هَذَا وَانْقَلَبَ إِلَى مَا أَعَدَّ اللهُتَعَالَى لَهُ مِنَ النَّعِيْمِ الدَّائِمِ وَالرَّاحَةُ الْخَالِصَةُ مِنَالنُّقْصَانِ وَأَمَّا الْكَافِرُ فَإِنَّمَا لَهُ مِنْ ذٰلِكَ مَا حَصَّلَ فِيْالدُّنْيَا مَعَ قِلَّتِهِ وَتَكْدِيْرِهِ بِالْمُنَغِّصَاتِ فَإِذَا مَاتَ صَارَإِلَى الْعَذَابِ الدَّائِمِ وَشَقَاءِ الْأَبَدِ.
এর অর্থ হচ্ছে- প্রত্যেক মু’মিন (দুনিয়াতে) কয়েদী বা জেলখানায় বন্দী। কেননা দুনিয়াতে তার জন্য মাকরূহ বা অপছন্দনীয়, হারাম ও প্রবৃত্তিপূজা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। কষ্টকর বিষয়গুলোতেও আনুগত্য করতে সে বাধ্য। অতঃপর যখন সে মারা যায় তখন এই বাধ্যবাধকতা থেকে সে স্বস্তি লাভ করে এবং আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য যে অফুরন্ত সুখ-শান্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন তার দিকে ধাবিত হয়। পক্ষান্তরে কাফের দুনিয়ায় সে যা (ভালো কিছু) অর্জন করে তার প্রতিদান খুব সামান্যই পেয়ে থাকে (যার বিনিময়ে সে দুনিয়ায় ভালো থাকে)। অতঃপর যখন মৃত্যুবরণ করে তখন চিরস্থায়ী ‘আযাব ও দুর্ভাগ্যের দিকে এগিয়ে যায়।[৩]
বন্দিশালায় কোনো কয়েদি পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগকরতে পারে না। বন্দি জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত কর্তৃপক্ষের আইনের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এ আইন লঙ্ঘন করার অধিকার কোনো বন্দীর নেই। যখন যে আদেশ তাকে দেওয়া হয় সে আদেশ মানতে সে বাধ্য। বন্দী কখনো এ কথা বলতে পারে না যে, আমি এ আদেশ মানবো, অমুক আদেশ মানবো না। দুনিয়ার জীবনও মু’মিনের জন্য বন্দিশালার মতো। কারণ এখানে সে পূর্ণ স্বাধীন নয়। মন যা চায় তা সে করতে পারে না। দুনিয়ার প্রেমে প্রেমাসক্ত হয়ে মু’মিন আল্লাহর হুকুমের বিপরীত কোনো হুকুম পালন করতে পারে না।
মু’মিন দুনিয়াতে দীর্ঘদিন থাকার ইচ্ছা পোষণ করতে পারে না। কেননা দুনিয়াতে দীর্ঘদিন থাকার ইচ্ছা পোষণ করার মাধ্যমে বিভিন্ন লোভ-লালসা তাকে গ্রাস করে ফেলে। যেহেতু আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টি অর্জনই আমাদের জীবনের মূল উদ্দেশ্য তাই আমাদের যাবতীয় কর্মকাণ্ড তারই নির্দেশ মোতাবেক হওয়া জরুরি। হাদীসে এসেছে-
عَنْعَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ أَخَذَ رَسُوْلُ اللهِ (ﷺ) بِمَنْكِبِيْ فَقَالَكُنْ فِيْ الدُّنْيَا كَأَنَّكَ غَرِيْبٌ أَوْ عَابِرُ سَبِيْلٍ وَكَانَ ابْنُعُمَرَ يَقُوْلُ إِذَا أَمْسَيْتَ فَلَا تَنْتَظِرْ الصَّبَاحَ وَإِذَا أَصْبَحْتَفَلَا تَنْتَظِرْ الْمَسَاءَ وَخُذْ مِنْ صِحَّتِكَ لِمَرَضِكَ وَمِنْ حَيَاتِكَلِمَوْتِكَ.
‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) একবার আমার দু’ কাঁধ ধরে বললেন- তুমি দুনিয়াতে থাকো যেন তুমি একজন প্রবাসী অথবা পথচারী।
আর ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রা.) বলতেন, তুমি সন্ধ্যায় উপনীত হলে সকালের আর অপেক্ষা করো না এবং সকালে উপনীত হলে সন্ধ্যার আরঅপেক্ষা করো না। তোমার সুস্থতার সময় তোমার পীড়িত অবস্থার জন্য প্রস্তুতি লও। আর তোমার জীবিত অবস্থায় তোমার মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি লও।[৪]
দুনিয়ায় মু’মিনকে শরিয়তের বিধি-নিষেধ মেনে জীবন যাপন করতে হয়। তা মু’মিনের জন্য পরীক্ষার কেন্দ্র বা শস্যক্ষেত্রের মতো। এর সুফল মৃত্যু-পরবর্তী জীবনের জন্য সংরক্ষিত থাকে। তাই পার্থিব জীবনে মু’মিনরা যেমন ইচ্ছা তেমনভাবে চলতে পারে না। ইরশাদ হয়েছে,
﴿اَلَّذِیْخَلَقَ الْمَوْتَ وَ الْحَیٰوْۃَ لِیَبْلُوَکُمْ اَیُّکُمْ اَحْسَنُ عَمَلًا ؕ وَهُوَ الْعَزِیْزُ الْغَفُوْرُۙ﴾
“যিনি মৃত্যু ও জীবনকে সৃষ্টি করেছেন তোমাদের পরীক্ষা করার জন্য, কে তোমাদের মধ্যে কাজে উত্তম, তিনি পরাক্রমশালী ও ক্ষমাশীল।”[৫]
দুনিয়ায় নানাভাবে পরীক্ষা : নানা সময়ে আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে নানা উপায়ে পরীক্ষা করে থাকেন। এসব ক্ষেত্রে ধৈর্য ধারণকারীদের জন্য আল্লাহ তা‘আলা কুরআনে সুসংবাদ দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে,
﴿وَلَنَبْلُوَنَّکُمْ بِشَیْءٍ مِّنَ الْخَوْفِ وَ الْجُوْعِ وَ نَقْصٍ مِّنَالْاَمْوَالِ وَ الْاَنْفُسِ وَ الثَّمَرٰتِ ؕ وَ بَشِّرِ الصّٰبِرِیْنَ ۙ۞ اَلَّذِیْنَاِذَاۤ اَصَابَتْهُمْ مُّصِیْبَۃٌ ۙ قَالُوْۤااِنَّا لِلّٰهِ وَ اِنَّاۤ اِلَیْهِرٰجِعُوْنَ﴾ؕ
“আর নিশ্চয়ই আমি পরীক্ষা করব তোমাদেরকে ভয়, ক্ষুধা, ধন, প্রাণ ও শস্যের অভাবের কোনো একটি দ্বারা। আর আপনি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ প্রদান করুন। যাদের উপর কোনো বিপদ আসলে তারা বলে, নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহরই জন্যে এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী।”[৬]
দুনিয়ায় কঠিন বিপদে পড়েন যাঁরা : যুগে যুগে নবী-রাসূল এবং তাঁদের অনুসারীরা পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছেন। ঠিক তেমনি সাহাবা, তাবেয়ী, তাবে তাবেয়ি এবং তাঁদের অনুসারীরাও কঠিন পরীক্ষায় পড়েছেন। এসব ক্ষেত্রে যাঁরা ধৈর্য ধারণ করে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করেছেন তাঁদের জন্য পরকালে রয়েছে অফুরন্ত পুরস্কার। তাই ধৈর্য ধারণ করা ও লক্ষ্য বাস্তবায়নে অবিচল থাকা মু’মিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রা.) জিজ্ঞাসা করেছেন, হে আল্লাহর রাসূল (সা.)!
أَىُّالنَّاسِ أَشَدُّ بَلَاءً قَالَ "الْأَنْبِيَاءُ ثُمَّ الْأَمْثَلُ فَالْأَمْثَلُفَيُبْتَلَى الرَّجُلُ عَلٰى حَسَبِ دِيْنِهِ فَإِنْ كَانَ دِيْنُهُ صُلْبًااشْتَدَّ بَلَاؤُهُ وَإِنْ كَانَ فِيْ دِيْنِهِ رِقَّةٌ ابْتُلِيَ عَلٰى حَسَبِدِيْنِهِ فَمَا يَبْرَحُ الْبَلَاءُ بِالْعَبْدِ حَتّٰى يَتْرُكَهُ يَمْشِيْ عَلٰىالْأَرْضِ مَا عَلَيْهِ خَطِيئَةٌ". قَالَ أَبُوْ عِيْسَى هَذَا حَدِيْثٌحَسَنٌ صَحِيْحٌ. وَفِيْ الْبَابِ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ وَأُخْتِ حُذَيْفَةَبْنِ الْيَمَانِ أَنَّ النَّبِيَّ (ﷺ) سُئِلَ أَيُّ النَّاسِ أَشَدُّ بَلَاءًقَالَ الْأَنْبِيَاءُ ثُمَّ الْأَمْثَلُ فَالْأَمْثَلُ.
মানুষের মাঝে কার বিপদের পরীক্ষা সবচেয়ে কঠিন হয়? তিনি বললেন : নবীদের বিপদের পরীক্ষা, তারপর যারা নেককার তাদের, এরপর যারা নেককার তাদের বিপদের পরীক্ষা। মানুষকে তার ধর্মানুরাগের অনুপাত অনুসারে পরীক্ষা করা হয়। তুলনামূলকভাবে যে লোক বেশি ধার্মিক তার পরীক্ষাও সে অনুপাতে কঠিন হয়ে থাকে। আর যদি কেউ তার দ্বীনের ক্ষেত্রে শিথিল হয়ে থাকে তাহলে তাকে সে মোতাবিক পরীক্ষা করা হয়। অতএব, বান্দার উপর বিপদাপদ লেগেই থাকে, অবশেষে তা তাকে এমন অবস্থায় ছেড়ে দেয় যে, সে যমীনে চলাফেরা করে অথচ তার কোনো গুনাহই থাকে না।[৭]
কষ্টের বিনিময় : এমনকি আখিরাতের অফুরন্ত প্রতিদান দেখে দুনিয়ার বিপদমুক্ত ব্যক্তিরা নিজেদের জন্য আফসোস করবে।
عَنْجَابِرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ (ﷺ) " يَوَدُّ أَهْلُ الْعَافِيَةِيَوْمَ الْقِيَامَةِ حِينَ يُعْطَى أَهْلُ الْبَلاَءِ الثَّوَابَ لَوْ أَنَّجُلُودَهُمْ كَانَتْ قُرِضَتْ فِي الدُّنْيَا بِالْمَقَارِيضِ
জাবির (রা.) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কিয়ামত দিবসে বিপদে পতিত (ধৈর্যধারী) মানুষদের যখন প্রতিদান দেওয়া হবে, তখন (পৃথিবীতে) বিপদমুক্ত মানুষেরা আকাঙ্খা (পরিতাপ) করবে, হায়! দুনিয়াতে যদি কাঁচি দ্বারা তাদের শরীরের চামড়া কেটে টুকরা টুকরা করে দেওয়া হত।[৮]
عَنْأَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ (ﷺ) حُجِبَتِ النَّارُبِالشَّهْوَاتِ وَحُجِبَتِ الْجَنَّةُ بِالْمَكَارِهِ.
আবূ হুরাইরাহ্ (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জাহান্নামকে কামনা-বাসনাদ্বারা ঢেকে রাখা হয়েছে। আর জান্নাতকে ঢেকে রাখা হয়েছে বিপদ-মুসীবত দ্বারা।’[৯]
عَنْأَبِيْ هُرَيْرَةَ (رَضِيَ اللهُ عَنْهُ) قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ (ﷺ) تَعِسَعَبْدُ الدِّينَارِ وَالدِّرْهَمِ وَالْقَطِيْفَةِ وَالْخَمِيْصَةِ إِنْ أُعْطِيَرَضِيَ وَإِنْ لَمْ يُعْطَ لَمْ يَرْضَ.
আবূ হুরাইরাহ্ (রা.) বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘টাকা-পয়সার পূজারীরা ধ্বংস হোক। পোষাক বিলাসী ধ্বংস হোক। তাকে দিতে পারলে খুশী হয়, না দিতে পারলে রাগান্বিত হয়।’[১০]
অপরদিকে জান্নাতের বৈশিষ্ট্য হলো সেখানে কোনো কাজ ও তৎপরতা নিয়ন্ত্রিত নয়। ইচ্ছেমতো জীবন যাপন করতে পারবে। জান্নাতিদের কোনো ইচ্ছে অপূর্ণ থাকবে না। সর্বত্র সুখ আর সুখ। জান্নাতের আরাম আয়েশ ছেড়ে জান্নাতিগণ কখনো বাইরে যেতে চাইবে না। কোটি কোটি বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও কোনো জান্নাতবাসী হাঁফিয়ে উঠবে না।
যদিও দুনিয়া কখনো জান্নাতের সাথে তুলনীয় হতে পারে না। তবুও পৃথিবীকে কাফিরদের জান্নাত বলার অর্থ হচ্ছে কাফিররা দুনিয়াকে জান্নাত মনে করে। তারা তাদের জীবনকে আল্লাহপ্রদত্ত সীমার বাইরে থেকে ভোগ করতে চায়। তারা দুনিয়ার জীবনকে উপভোগ করার জন্য সম্ভাব্য সকল পথ অবলম্বন করে থাকে। প্রবৃত্তির হুকুম ও চাহিদা অনুযায়ী জীবন যাপন করে। তারা আখিরাতে বিশ্বাসী না হওয়ার কারণে দুনিয়ার জীবনকে সুন্দর ও উপভোগ্য করার জন্য জীবনপাত করে। অথচ একদিন তাকে এ সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে খালি হাতে মুসাফিরের মতো বিদায় নিয়ে চলেযেতে হবে। বন্দীগণ যেমন বন্দিশালাকে নিজের গৃহ মনে করে না, নিজ গৃহে ফেরার জন্য সর্বদাব্যাকুল থাকে। তেমনি মু’মিনগণ পৃথিবীকে আবাসস্থল মনে করে না। তাই দুনিয়ার জীবনে আরাম আয়েশ ও ভোগ বিলাসের মোহ তার থাকে না; বরং তার মন চির সুখের জান্নাতে যেতে ব্যাকুল থাকে। এ জন্য সে তা লাভ করার জন্য কঠিন প্রচেষ্টায় নিয়োজিত থাকে এবং সকল বিপদ আপদ দুঃখ-কষ্টকে হাসিমুখে বরণ করে নেয়।
শিক্ষাসমূহ
১. দুনিয়ার সুখ আসল ও চিরস্থায়ী নয়।
২. পৃথিবী মানুষের স্থায়ী নিবাস নয় সাময়িক পরীক্ষাকেন্দ্র মাত্র। ✋
[১] সহীহ মুসলিম; মিশকা-তুলমাসা-বীহ- হা. ৫১৫৮।
[২] ইবনু তাইমিয়্যাহ্; জামেউর রাসায়েল- ২/৩৬২।
[৩] শরহ মুসলিম- ইমাম নববী, ১৮/৯৩।
[৪] আহমাদ- হা. ৬৩৬৫; আত্ তারগিব ওয়াত্ তারহিব- ৩/১৬।
[৫] সূরা আল-মুলক : ২।
[৬] সূরা আল বাক্বারাহ্ : ১৫৫-১৫৬।
[৭] সুনান আত্ তিরমিযী- হা. ২৩৯৮।
[৮] জামে‘ আত্ তিরমিযী- হা. ২৪০২।
[৯] সহীহুল বুখারী; মুসলিম; মিশকা-তুল মাসা-বীহ-হা. ৫১৬০।
[১০] সহীহুল বুখারী; মিশকা-তুলমাসা-বীহ- হা. ৫১৬১।

আপনার মন্তব্য1