সাময়িক প্রসঙ্গ
আদর্শ সমাজ গড়তে চাই নৈতিক গুণে গুণান্বিত নেতৃত্ব
শাইখ মুহাম্মাদ হারুন হুসাইন

আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন যোগ্য নেতৃত্ব। আল্লাহ তা‘আলা পৃথিবীর মানুষকে তাওহীদের উপর এক ও অভিন্ন জাতি হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সৃষ্টি করেছেন। আর এই মহৎ লক্ষ্য পূরণের জন্য তিনি যুগে যুগে বেছে নিয়েছেন যোগ্যতম ব্যক্তিকে- যাদেরকে তিনি নবী ও রাসূল বানিয়েছেন। তাঁদের হাতে তুলে দিয়েছেন ঈমানের প্রদীপশিখা, সমৃদ্ধ করেছেন সময়োপযোগী হেদায়েতবাণীতে। তাঁরা জাতিকে দিয়েছেন দিকনির্দেশনা, দেখিয়েছেন ন্যায়ের পথ, আর প্রতিকূলতার অন্ধকারে থেকেও অবিচল থেকেছেন নীতি ও আদর্শে। তাঁদের চরিত্রের মাধুর্য জাতিকে করেছে বিমোহিত; আর মহান আল্লাহর ইচ্ছায় মানুষ পেয়েছে সত্যের সন্ধান, জীবনে এনেছে আলোর দিশা।

সর্বজনবিদিত সত্য হলো- কোনো ইসলামী দল, জাতি কিংবা সংগঠন পরিচালনার জন্য যোগ্য নেতৃত্বই হলো তার প্রাণশক্তি। যোগ্য নেতৃত্ব পেলে জাতি সুনিয়মে, সুসংগঠিতভাবে লক্ষ্যপানে এগোতে থাকে। বিপরীতে, যদি নেতৃত্ব হয় অন্তঃকেন্দ্রিক কিংবা দূরদর্শিতাহীন, তবে তা হয়ে দাঁড়ায় জগদ্দল পাথরের মতো ভারী বোঝা। তখন জাতি হয় বিপর্যস্ত, লক্ষ্যচ্যুত হয় আদর্শ। তাই নেতৃত্ব নির্বাচনে জাতিকে অবশ্যই বেছে নিতে হবে প্রজ্ঞাবান, দূরদর্শী ও বিচক্ষণ ব্যক্তিকে- যাঁর নেতৃত্ব জাতিকে সফলতার দিগন্তে পৌঁছে দেবে।

কারণ নেতা মানে শুধু পদ অলঙ্কার নয়; নেতা মানে পরিকল্পনাকারী, দিকনির্দেশক ও সঙ্কটকালে সাহসী সিদ্ধান্তদাতা। নেতা দক্ষভাবে কর্মপরিকল্পনা বণ্টন করবেন, কর্মীদের সম্ভাবনা জাগ্রত করবেন এবং তাঁদের হাত দিয়েই বাস্তবায়ন করবেন মহৎ কাজ। এতে যেমন দক্ষ কর্মীশক্তি তৈরি হবে, তেমনি দ্রুত হবে সমস্যা সমাধান। কিন্তু যদি নেতা নিজেকেই সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু করে তুলেন- বাজারে তিনি, মঞ্চে তিনি, মিম্বারে তিনি, অফিসে তিনি, সাক্ষাৎকারে তিনি, মিডিয়ায় তিনি, মাদরাসায় তিনি, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনিই; মুখপত্রে, মূল কমিটিতে, উপকমিটিতে, সাব কমিটিতেও কেবল তিনিই- তবে তা নেতৃত্ব নয়; বরং এক “ওয়ান ম্যান শো”, যেখানে সংগঠন থাকে অনুপস্থিতÑ এমন নেতৃত্ব কাম্য নয়। কেননা তা আধিপত্যবাদ জন্ম দেয়। এই ধরনের কর্তৃত্ববাদী নেতৃত্ব নিজেকে টিকিয়ে রাখতে অনৈতিক ও খারাপ চরিত্রের মানুষগুলোকে নিজের আশে পাশে স্থান দিয়ে, নেতৃত্বকে আরো কুক্ষিগত ও স্থায়ী করতে চায়। আর তখন তারা ভুলে যায় যে, মহান আল্লাহর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত, তিনিই যুগে যুগে জালিমের অবসান ঘটিয়েছেন।

জাতীয় সংসদও একই সূত্রে বাঁধা। সংসদ সদস্যগণ সংবিধানের আলোকে নীতি নির্ধারণ করবেন, দেশ পরিচালনার দিকনির্দেশনা দেবেন- এটিই তাঁদের দায়িত্ব। কিন্তু তাঁরা যদি হয়ে ওঠেন আইনরক্ষক, শাসক, প্রশাসক, সমাজপতি, এমনকি টেন্ডারবাজি কিংবা ক্ষমতার দখলদারÑ তবে দেশ কখনো সঠিক পথে এগোতে পারবে না; বরং দল বা ব্যক্তির অতিরিক্ত শক্তি সমাজকে তটস্থ করে তুলবে। এমন নেতৃত্ব পরবর্তী প্রজন্মকে টেনে নেবে ধ্বংসের অতলে, জাতিকে পরিণত করবে নৈতিক শূন্যতায়। ইসলামী দল বা সংগঠন পরিচালনার ক্ষেত্রেও চিত্রটি ভিন্ন নয়- যোগ্য নেতৃত্ব না থাকলে সেখানে জন্ম নেবে বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য।

অতএব, সঠিক আসনে বসাতে হবে যোগ্যজনকে। আর সে নির্বাচন নির্ভর করবে জাতির দূরদর্শিতা ও প্রজ্ঞার ওপর। কেননা, নেতৃত্বই জাতির দিকনির্দেশক, নেতৃত্বই জাতির আলোকবর্তিকা।



https://weeklyarafat.com


আপনার মন্তব্য1

ঢাকায় সূর্যোদয় : 6:38:16 সূর্যাস্ত : 5:47:13

সাপ্তাহিক আরাফাতকে অনুসরণ করুন

@সাপ্তাহিক আরাফাত