সাময়িক প্রসঙ্গ
২০২৫ শিক্ষাবর্ষে আমাদের প্রত্যাশা
শাইখ মুহাম্মাদ হারুন হুসাইন

২০২৪ শিক্ষাবর্ষ নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে শেষ হলো। আসছে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষ। জানি না কেমন যাবে? তবে ভালো কিছু আশা করার মধ্যেই প্রশান্তি। শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড -এটি বাস্তব সত্য হলেও যেন আজ তা প্রবাদে পরিণত হয়ে পড়েছে। বর্তমানে সনদধারী শিক্ষিতদের অনেকেই নিজ মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে পারছে না।  বেকারত্ব, কর্মবিমুখতা, অপসংস্কৃতি, মনুষ্যত্বহীনতা, বেপরোয়া জীবন, অসৃজনশীলতা ক্রমশঃ তাদেরকে হীনমন্যতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আর এসবের অন্তরালে লুকিয়ে আছে নৈতিকতা বিবর্জিত শিক্ষা ও তার কু-প্রভাব।

ইসলাম শিক্ষাকে সবিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। ওয়াহীর প্রথম নির্দেশÑ “পড় তোমার প্রভুর নামে, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন।” যে জ্ঞান মহান আল্লাহকে জানতে ও চিনতে সহায়তা করে, সে জ্ঞানই যথার্থ ও সঠিক। পক্ষান্তরে যে জ্ঞান মানুষকে তার রব সম্পর্কে ধোঁকায় ফেলে রাখে, সে জ্ঞান কখনো সু-শিক্ষা হতে পারে না; বরং তা কুশিক্ষা। শিক্ষাতো আলোকবর্তিকার নাম, যা মানুষকে কল্যাণের পথ দেখায়। সত্য-মিথ্যা পার্থক্য জ্ঞান শেখায়, দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণকর কিছু করতে উদ্বুদ্ধ করে। কিন্তু আজ দেখছি দুর্নীতির শীর্ষে তথাকথিত কিছু শিক্ষিত ব্যক্তিবর্গ। পদ-পদবির জন্য তারা নিজ নৈতিকতা ও আদর্শকে জলাঞ্জলি দিতে কুণ্ঠাবোধ করে না। স্বার্থের জালে আটকা পড়ে নীতি ও নৈতিকতাকে ভুলে যায়। কেউ কেউ নিজ স্বার্থ চরিতার্থ করার কুমতলবে ইচ্ছে করে অনৈতিক কাজ করে ফেলে। আর যখন জিজ্ঞাসার সম্মুখীত হয়, না জানার ভান করে একেবারে সাধু সেজে বলে- বুঝতে পারিনি, আমার ভুল হয়ে গেছে। তখন এমন ব্যক্তির পক্ষে সাফাই গাওয়ার জন্য কিছু লোক চাটুকারিতা শুরু করে। এসব দেখে বিবেকসম্পন্ন ব্যক্তি অবাক হয়ে চেয়ে থাকে। ইচ্ছে থাকলেও কিছু বলতে পারে না। এ হলো আমাদের সমাজের কিছু চিত্র।

শিক্ষাকে প্রথমে দু’ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- (১) ইসলামী শিক্ষা, (২) সাধারণ শিক্ষা। ইসলামী শিক্ষা হুকুমভেদে কখনও ফর্যে আইন, কখনো ফর্যে কিফায়া, কখনো মুবাহ আবার কখনো হারাম হয়। অপসংস্কৃতি ও যাদু বিদ্যা হারাম। আর সাধারণ শিক্ষা যা মানব কল্যাণের উদ্দেশ্যে অর্জিত হয় এবং যাতে কোনোপ্রকার অবৈধ শিক্ষা থাকে না, সে সব শিক্ষা ইসলাম সমর্থন করে। নিজের ঈমান-‘আক্বিদাহ্ ঠিক রেখে মানুষ নিজ সন্তানকে এমন প্রয়োজনীয় শিক্ষা দিতে পারে। যেমন-চিকিৎসা, প্রকৌশল ও প্রাণিবিদ্যা ইত্যাদি।

২০২৫ শিক্ষা বর্ষে আমাদের দাবি ও প্রত্যাশা থাকবে, যেন মূর্তি পূজা, গো-মাতা পূজা, ট্রান্সজেন্ডার ইত্যাদির ন্যায় প্রকাশ্য কুফ্রী শিক্ষার কোনো দূরতম সম্পর্ক আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় না থাকে; বরং ইসলামী আদর্শ ও নীতিমালার উপর ভিত্তি করে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হয়। মনে রাখতে হবে-এ দেশ সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের দেশ। আর যা সত্য, তাই হলো জনমত। নিঃসন্দেহে ইসলামী আদর্শের শিক্ষা ব্যবস্থাই এ দেশের প্রকৃত জনমত। আর জনমত তথা সত্যের বিপরীত কোনো কিছুর মাঝে জাতির কল্যাণ নেই। আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে সঠিক দীনের ভিত্তিমূলে অবিচল থেকে নিজ নিজ সন্তানকে সু-শিক্ষায় শিক্ষিত করে আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা তাওফীক্ব দিন Ñআমীন। 



weeklyarafat


আপনার মন্তব্য1

ঢাকায় সূর্যোদয় : 6:38:16 সূর্যাস্ত : 5:47:13

সাপ্তাহিক আরাফাতকে অনুসরণ করুন

@সাপ্তাহিক আরাফাত