সাময়িক প্রসঙ্গ
বিবর্তনবাদ ও অপসংস্কৃতির ভয়াল গ্রাস : আমরা কোন্ পথে?
এম. জি. রহমান

বিবর্তনবাদ ও অপসংস্কৃতির ভয়াল গ্রাস : আমরা কোন্ পথে?
সংস্কৃতি দু’ধরনের। প্রাকৃতিক এবং ধর্মীয়। দেশ-কাল, পাত্রভেদে প্রাকৃতিক সংস্কৃতির ভিন্নতা ঘটে। আর এ প্রকার সংস্কৃতির প্রয়োগিক দিক সাধারণভাবে উম্মুক্ত, যতক্ষণ না আল্লাহপ্রদত্ত বিধানের সীমা লঙ্ঘিত হয়। পক্ষান্তরে ধর্মীয় সংস্কৃতি শরঈ সীমার মধ্যে সুরক্ষিত। দেশ-কাল বা পাত্রভেদে যার কোনো পরিবর্তন হয় না। আমরা মুসলিম ও বাংলাদেশি। আমাদের সংস্কৃতির মানদ- হবে ইসলামি আনুকূল্য নির্ভর। আর ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক নয়, এমন সংস্কৃতির লালন-প্রতিপালন বা চর্চাও দোষের নয়; বরং ইসলাম জাহিলিয়াতমুক্ত সামাজিকতাকে গুরুত্ব দিয়েছে। কোনো মুসলিম ইসলামের বাইরে গিয়ে কোনো প্রকার দেশাচার বা সংস্কৃতিকে কক্ষনো গ্রহণ করতে বা মেনে নিতে পারে না।

সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানুষ। প্রথম মানুষ আদম (‌'আ.)। আল্লাহ তা‘আলা তাকে নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন। জ্ঞান-বিজ্ঞান শিক্ষা দিয়েছেন। তারই দেহাংশ হতে সঙ্গিনী হাওয়্যাকে সৃষ্টি করেন। অতঃপর উভয়ের মাধ্যমে মানব সৃষ্টির দ্বারা অব্যাহত রাখেন। আল্লাহ তা‘আলা মানবজাতিকে সৃষ্টিকুলের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। দাঊদ (‌'আ.)-এর নবুওয়াতকালে কিছুলোক মহান আল্লাহর চরম অবাধ্য হলে তাদের আকৃতি পরিবর্তন করার মাধ্যমে কঠোর শাস্তি প্রদান করা হয়- নিকৃষ্ট বানরে পরিণত করে তাদের ধ্বংস করে দেওয়া হয়। তবে মানুষ কী এখন আল্লাহ প্রদত্ত সম্মান ও মর্যাদা বাদ দিয়ে শাস্তিপ্রাপ্ত অভিশপ্ত বানরের সন্তান বলে নিজেকে পরিচয় দিতে চায়? এটা কোনো বিবেকবান মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হতে পারে? কিন্তু পরিতাপ এই যে, এক শ্রেণির তথাকথিত শিক্ষাবিদ বিবর্তনবাদের নামে নাস্তিকতার বিষবাষ্প ছড়ানো অপচেষ্টায় লিপ্ত। অথচ তারা এটা জানে না যে, নাস্তিকতা বলতে পৃথিবীতে কোনো আদর্শ নেই। প্রকৃতির দোহাই দিয়ে যারা মহান আল্লাহকে অস্বীকার করে, তারা মূলত প্রকৃতিপূজারি, আর এটাই তাদের ধর্ম। আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে নফসের পূজারি বলেছেন, “আর তারা নিজেদের খেয়াল-খুশি মতো চলে।” পক্ষান্তরে আর একশ্রেণির কথিত শিক্ষাবিদ নাস্তিকতার আড়ালে অন্য ধর্ম ও সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতা করছে!

এবার আমাদের শিক্ষা কারিক্যুলামের দিকে তাকাই। সেখানে অভিন্ন শিক্ষার নামে মাদ্রাসা শিক্ষা ও সাধারণ শিক্ষাকে একাকার করে ফেলা হয়েছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, বাংলাদেশ হতে প্রকাশিত সিলেবাসের মধ্যে ডারউইনের অবৈজ্ঞানিক, ভ্রান্ত ও বস্তাপঁচা বিবর্তনবাদের তথ্য ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। নিম্নমাধ্যমিক স্তরের সিলেবাসে বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের ‘অবরোধবাসিনী’র পাঠ্যাংশ ঢুকিয়ে কোমলমতি অবুঝ শিশুদেরকে উন্মাদনার যাঁতাকলে পিষ্ঠ করার কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে। ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুশীলনের নামে বিকৃত চিন্তা-চেতনা ও অপসংস্কৃতি শেখানো হচ্ছে। ছবি এঁকে বানর থেকে মানুষে রূপান্তরের অশালীন, অসভ্য ও বিকৃত ইতিহাস শিক্ষা দেওয়ার কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে।

এক্ষণে আমাদের জিজ্ঞাসা! এটা সংস্কৃতি চর্চার নামে অপসংস্কৃতির আগ্রাসনে স্বেচ্ছায় আপন স্বকীয়তাকে বিলীন করার অপপ্রয়াস নয় কী? অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, তথাকথিত সিলেবাস বিশেষজ্ঞরা অন্যকে খুশি করতে গিয়ে অতি উৎসাহী হয়ে জাতির সর্বনাশা এ সিলেবাস প্রণয়ন করেছেন।
সিলেবাসে যেসব গল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দেশীয় ও ইসলামী সংস্কৃতি ভুলে যাবে। মুসলিমগণের নাম ও অমুসলিমগণের নামে অর্থ ও ভাষাগত বেজায় তফাত বিদ্যমান। কিন্তু পাঠ্য বইয়ে কাহিনীর দৃশ্যপট বর্ননাকালে এমনসব নাম স্থান পেয়েছে, যা কোনোভাবে ইসলামি সংস্কৃতির সাথে খাপ খায় না। এ ক্ষেত্রেও ইসলামি নামসমূহকে পাশ কাটিয়ে অন্যদের সংস্কৃতি ও ধর্মনির্ভর নাম চয়ন করা হয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্য বুঝতে আর বাকি নেই। এসব চলতে থাকলে বাংলাদেশের দেশীয় কালচার ও ইসলামী মূল্যবোধ অচিরেই পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহৎ মুসলিম দেশ থেকে অনায়াসে বিদায় নেবে, আর সেসব জায়গা দখল করবে আগ্রাসী অপশক্তি। তখন আমাদের করার কিছুই থাকবে না। আমরা নিজ ভূমে হয়ে যাবো পরবাসী।

এ অবস্থায় আমরা আমাদের সরকারকে বলবো- এরূপ আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করুন এবং দেশপ্রেম, নৈতিকতা, আদর্শ, সম্প্রীতি, ভালোবাসা, মমত্ববোধ ও মনুষ্যত্ব শিক্ষা দেয় হয়, এমন সিলেবাস প্রণয়ন করে জাতিকে রক্ষা করুন। যে শিক্ষায় সুনাগরিক তৈরি হবে, তা প্রণয়নে ইসলামি শিক্ষাবিদ ও দেশীয় সংস্কৃতির জ্ঞানসম্পন্ন প্রকৃত জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তির সমন্ববয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড পুনর্গঠন করুন! তাহলে দেশ ও জাতি সমূহ ক্ষতি এবং ধ্বংসযজ্ঞ হতে রক্ষা পাবে। হে আল্লাহ! তুমি আমাদের সুবুদ্ধির উদয় দাও -আমীন।


সাপ্তাহিক আরাফাত, বর্ষ- ৬৪, সংখ্যা- ১৭ ও ১৮ | ২৩ জানুয়ারি- ২০২৩, ২৯ জমাদিউস্ সানি-১৪৪৪, ০৯ মাঘ-১৪২৯


আপনার মন্তব্য

ঢাকায় সূর্যোদয় : 5:22:21 সূর্যাস্ত : 6:47:59

সাপ্তাহিক আরাফাতকে অনুসরণ করুন

@সাপ্তাহিক আরাফাত